মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বাংলাদেশ বেতার, রংপুর

উত্তরাঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও উন্নয়নে এবং এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬৭ সালের ১৬ই নভেম্বর রংপুর বেতার কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। রংপুর বেতার কেন্দ্র  উপহার দিয়েছে আব্বাসউদ্দিন, বেবী নাজনীন, রথীন্দ্রনাথ রায়, কছিমুদ্দিন, মহেশচন্দ্ররায়সহ অনেক নামি-দামী সঙ্গীতশিল্পী, নাট্য শিল্পী, গীতিকার, নাট্যকার ও সাহিত্যসেবী। ১৬৬টি সরকারী (রাজস্ব খাতে) এবং ২৩টি আধা-সরকারী (শিল্পী খাতে) অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত ১ম শ্রেণীর পদ রয়েছে।বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রের প্রচার ভবন (বেতার ভবন)ধাপ এলাকায় অবস্থিত (বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ১০০ গজ উত্তরে)এবং প্রেরন কেন্দ্র ( ট্রান্সমিটার) উত্তমে অবস্থিত। বিস্তারিত জানতে ওয়েবসাইট ভিজিট করুন www.betar.gov.bd

বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্র একটি মিডিয়াম ওয়েভ এবং একটি এফএম ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ২৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট অনুষ্ঠান প্রচার করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা, শিশু ও নারী, ক্রীড়া, গান, নাটকসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি প্রতি ঘন্টার জাতীয় সংবাদ ও ৩টি নিজস্ব আঞ্চলিক সংবাদ প্রচারিত হয় এ কেন্দ্র থেকে। এ কেন্দ্রের বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানসমূহ হলো প্রাত্যহিক রেডিও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘সম্ভার’, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের অনুষ্ঠান ‘মহুয়া’, স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা’, ইত্যাদি। মিটার ব্যান্ড ১০ কিলোওয়াট মধ্যম তরঙ্গ, ১০৫৩ কিলোহার্জ ও এফএম ১০৫.৪ মেগাহার্জে বি বি সি, ডয়েচে ভেলে, এন এইচ কে ও রংপুর কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রটি (বর্তমানে এএম সম্প্রচার প্রেরণ কেন্দ্র, উত্তম) ১৬-নভেম্বর/১৯৬৭ ইং তারিখে এবং পরবর্তী সময়ে ১৪-এপ্রিল/১৯৮৫ ইং সালে ধাপ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, রংপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে প্রচার ভবন নির্মাণের পর থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বেতার কেন্দ্র হিসাবে সম্প্রচার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্র থেকে বর্তমানে দুটি অধিবেশন এবং দুটি মাধ্যমে (এএম এবং এফএম ব্যান্ডে) প্রতিদিন ২২ঘন্টা-১৫মিঃ স্থানীয় অন্ষ্ঠুান ও সংবাদ, জাতীয় অনুষ্ঠান ও সংবাদ, বিবিসি’র বাংলা অনুষ্ঠান ও সংবাদ এবং ডয়েস এ ভেলে জার্মানী’র বাংলা অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচার করা হয়। স্থানীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে নাটক, কথিকা, কৃষি বিষয়ক কথিকা/সংবাদ, স্থানীয় সংবাদসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান এবং ফোন ইন সরাসরি অনুষ্ঠান এ কেন্দ্রের প্রিয় অনুষ্ঠান।

সূত্রঃ http://betarprogram.org/rangpur

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

উত্তরাঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও উন্নয়নে এবং সর্বোপরি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সদর উপজেলার উত্তম ইউনিয়নে রংপুর দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে ১৯৬৭ সালের ১৬ই নভেম্বর রংপুর বেতার কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৬৯ এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা দেখা দেয়। শুরু হয় গণঅভ্যূত্থান। আসে ৭০ এর নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় পাক শাসক গোষ্ঠী মেনে নিতে চায় না। শুরু হয় প্রতিবাদ বিক্ষোভ। বাঙ্গালী জাতি আন্দোলনে গর্জে ওঠে। এসময় দেশের অন্যান্য বেতারের মত রংপুরেও ঘোষণায় পরিবর্তন আসে ‘রেডিও পাকিস্তানের’ পরিবর্তে বলা হয় ’রংপুর বেতার কেন্দ্র’। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রের অনেক ক্ষতি সাধিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন উদ্যোমে শুরু হয় বেতারের কার্যক্রম। অনুষ্ঠান প্রচারের সময় বেড়ে যায়, শিল্পী, কলা-কুশলীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। । উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে বেতার কেন্দ্রে নতুন বুলগেরিয়ান ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়। ফলে প্রচার মান বৃদ্ধি পায়। কিন্তু উত্তমস্থ কেন্দ্রটিতে ট্রান্সমিটারের রেডিয়েশন সমস্যা, শহরের বাহিরে হওয়ায় যাতায়াত ও সময়মত অনুষ্ঠানে উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয় । ফলশ্রুতিতে তথ্য মন্ত্রণালয় শহরের কেন্দ্রস্থলে ধাপ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ায় প্রচার ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে এবং ১৯৮৫ সালের ১৪ এপ্রিল উদ্বোধন হয় বাংলাদেশ বেতার, রংপুরের প্রচার ভবন এর। নতুন ভবনে কলেবর বৃদ্ধি হয় অনুষ্ঠানের। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের রংপুর বেতার উদ্ধোধন হলেও এর প্রায় তিন বছর পর অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের মাত্র তিন মাস আগে ১৯৭০ এর ১১ ডিসেম্বর এ কেন্দ্র থেকে প্রথম স্থানীয় সংবাদ প্রচার শুরু হয়। রংপুর অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ছাড়াও ওরাও, সাঁওতাল, মুন্ডা, মাল এমনি নানা সম্প্রদায়ের আদিবাসীর বাস। এদের রয়েছে নিজস্ব রীতি নীতি এবং সংস্কৃতি। এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বেতার অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত উদ্দেশ্যে ১৯৮১ সালে ১৪ এপ্রিল দিনাজপুরের হেমায়েত হলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের সমন্বয়ে এক আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। “মহুয়া” শিরোনামে এ অনুষ্ঠানটি সরাসরি মঞ্চ থেকে বেতারে প্রচার করা হয় এবং সেদিন থেকে বেতার অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় “মহুয়া” সংযোজন। প্রথমে প্রতি মাসে একবার পরে ১৯৮৫ তে প্রচার ভবনে আসার পর মাসে দুবার এবং এর পর সাপ্তাহিক হিসাবে অন্তভূক্ত হয় যা অব্যাহত রয়েছে। এ কেন্দ্রের আরো উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান সম্ভার, স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা ইত্যাদি। এ এম (মিডিয়াম ওয়েভ) সম্প্রচার ১০৫৩ কিঃ হাঃ/ ২৮৪.৯০ মিটার এবং এফএম ব্যান্ড ১০৫.৪, ৯০ ও ৮৮.৮ মেগাহার্জে বিবিসি ও রংপুর কেন্দ্রে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয। বিশ্ব যখন ক্রমেই ডিজিটাল হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ বেতার, রংপুরেও তার ছোয়া লাগে একবিংশ শতকের শুরুতে। পুরনো এনালগ মেশিন, টেপ ফেলে দিয়ে কম্পিউটার নির্ভর রেকর্ডিং, এডিটিং এবং সম্প্রচার শুরু হয়। সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় এফ এম রেডিও শোনানোর জন্য কেন্দ্রে তিনটি এফ এম (১০৫.৪, ৯০.০০ ও ৮৮.৮ মেগাহার্জ) ট্রান্সমিটার স্থাপিত হয়েছে। ভাওয়াইয়া গানের সংগ্রহশালা স¤ৃদ্ধ করার জন্য ২০০৮ এ প্রতিষ্ঠা করা হয় ’ভাওয়াইয়া আর্কাইভ’। বেতার অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য ২০০৭ সালে চালু করা হয় স্বাস্থ্য, কৃষি, পড়াশোনা ও ধর্ম বিষয়ক ফোন-ইন অনুষ্ঠান। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রী ও শ্রোতাদের জ্ঞানের ভান্ডার বৃদ্ধির জন্য চালু করা হয় বিতর্ক, বিজ্ঞান ও কুইজ প্রতিযোগিতা। এছাড়াও বিভিন্ন বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এসময় কেন্দ্র প্রথমবারের মতো ১০৭টি বেতার শ্রোতাক্লাবের অংশগ্রহণে শ্রোতাক্লাব সম্মেলন করে ২০১১ সালে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বেতার রংপুর ৫০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনে দুই দিন ব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব পালন করে।  

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)